শুল্ক স্টেশন সচল হোক, সীমান্ত বাণিজ্যে গতি ফিরুক
- আপলোড সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ০৯:০০:১৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ০৯:০০:১৯ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশন জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভারত থেকে কয়লা ও চুনাপাথর আমদানির মাধ্যমে এসব শুল্ক স্টেশন শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যকেই সচল রাখে না, একই সঙ্গে সৃষ্টি করে বিপুল কর্মসংস্থান এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করে। অথচ অবকাঠামোগত দুর্বলতা, বেহাল সড়ক যোগাযোগ এবং পাহাড়ি ঢলের ক্ষয়ক্ষতিতে এই সম্ভাবনাময় বাণিজ্যকেন্দ্রগুলো এখন সংকটের মুখে।
প্রায় তিন মাস ধরে চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি বন্ধ থাকা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। পাহাড়ি ঢলে সড়ক ভেঙে যাওয়া, ছড়ার গতিপথ পরিবর্তন এবং বালি-পাথর জমে যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় শুধু আমদানি কার্যক্রমই থেমে যায়নি, কর্মহীন হয়ে পড়েছেন পণ্য ওঠানো-নামানোর সঙ্গে যুক্ত হাজারো শ্রমিক। বড়ছড়া ও বাগলীর আমদানিও বেহাল সড়কের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়ীদের ওপর; পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, কমছে মুনাফা, সংকুচিত হচ্ছে ব্যবসার পরিধি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এটি কেবল ব্যবসায়ীদের সমস্যা নয়, এটি সরকারের রাজস্বের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনটি শুল্ক স্টেশন থেকে ১৯৩.৩৭৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের মতে, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নত হলে এসব স্টেশন থেকে রাজস্ব আদায় আরও বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারে বিনিয়োগ করলে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতেও সৃষ্টি হবে নতুন গতি।
দুঃখজনক হলেও সত্য, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল রাজস্ব প্রদান করেও সীমান্তবর্তী এসব বাণিজ্যকেন্দ্র কাক্সিক্ষত অবকাঠামোগত সুবিধা পায়নি। বর্ষা এলেই সড়কে কাদা ও বড় বড় গর্ত, পাহাড়ি ঢলে সড়ক ভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর নাব্যতা সংকটে নৌপরিবহন ব্যাহত হওয়া—সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের বছরের পর বছর একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সাময়িক মেরামত দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় বিন্নাকুলি-বড়ছড়া-মধ্যনগর সড়ক দ্রুত পাকাকরণ, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে শুল্ক স্টেশন পর্যন্ত সংযোগ সড়কের উন্নয়ন এবং পাহাড়ি ঢলের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। একই সঙ্গে চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করে আমদানি কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে হবে। নদীপথের নাব্যতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রমও নিয়মিত করতে হবে।
আমরা মনে করি, সীমান্ত বাণিজ্যকে শুধু রাজস্ব আদায়ের মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো শ্রমিকের জীবন-জীবিকা, ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ, স্থানীয় অর্থনীতির গতি এবং সরকারের রাজস্ব। তাই বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশনকে ঘিরে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত এই সংকটের সমাধান করতে হবে। শুধু চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন খুলে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না; তিনটি শুল্ক স্টেশনের সড়ক, যোগাযোগ, নদীপথ ও অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সরকার যদি এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে বন্ধ আমদানি কার্যক্রম সচল হবে, কর্মহীন শ্রমিকদের জীবনে ফিরবে স্বস্তি, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং বাড়বে সরকারি রাজস্ব। সীমান্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তাহিরপুরকে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার এখনই উপযুক্ত সময়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়